বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩


রাজস্বে আদায়ে বড় ধাক্কা: ৯ মাসে ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত:২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৪

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় করেছে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে চলমান চাপ, জ্বালানি সংকট, আমদানি ধীরগতি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রভাব রাজস্ব আদায়ের ওপর স্পষ্টভাবে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এনবিআরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। একই সময়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ফলে এ সময়ে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এই ঘাটতি ছিল ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা রাজস্ব আহরণের গতি কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের জন্য পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যথেষ্ট হয়নি। একই সময়ে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক—এই তিন প্রধান খাতেই প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ঘাটতি থেকেই গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ভ্যাট খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই তিনটি বড় খাতেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে।

বিশেষ করে মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৫০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। ওই মাসে আয়কর খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, অথচ আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। একই সময়ে ভ্যাট খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা, অথচ আদায় হয়েছে ১৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। মার্চে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা রাজস্ব আদায়ের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি কমে যাওয়া, শিল্প উৎপাদনের ধীরগতি, ব্যবসায়িক লেনদেন সংকুচিত হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ প্রবাহ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়ায় আয়কর ও ভ্যাট আদায়েও চাপ তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির প্রভাবও শুল্ক আদায়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গত অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতির মুখে পড়েছিল সরকার। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। সে বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৩৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। ফলে টানা দুই অর্থবছর ধরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানো না গেলে সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বড় রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ বাড়াতে হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:১৩ - ৫:২৭ ভোর
যোহর ১১:৫৭ - ৪:২০ দুপুর
আছর ৪:৩০ - ৬:১৮ বিকেল
মাগরিব ৬:২৩ - ৭:৩৭ সন্ধ্যা
এশা ৭:৪২ - ৪:০৮ রাত

বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬