রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
লিবিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ড. এমহামেদ সাঈদ জিদানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ।
বৈঠকে লিবিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও সুদূরপ্রসারী, গতিশীল ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গত সপ্তাহে হওয়া এই বৈঠক নিয়ে ত্রিপোলীর বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, বৈঠকের শুরুতে উপমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের প্রতিনিধি দলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উভয় দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, লিবিয়ার উন্নয়ন কার্যক্রমে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং তাদের নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা ও আমানতদারিতার মাধ্যমে তারা লিবিয়ান জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত লিবিয়া-বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ প্রেক্ষিতে তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সংলাপ আয়োজন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি প্রদানের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করেন।
রাষ্ট্রদূত লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকের অপহরণ, নির্যাতন এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্বেগজনক বিষয় তুলে ধরে এসব ঘটনার প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধের বিষয়েও উভয় পক্ষ গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেন। এ প্রেক্ষিতে অনিয়মিত অভিবাসন সংক্রান্ত বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা, অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি অভিবাসীদের নিরাপত্তা, মানবিক ঝুঁকি হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া, উভয়পক্ষ স্বাস্থ্যখাতসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণে সমন্বিত ও আন্তরিকভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)